অধ্যায় ২: ডিজায়ার মেকানিজম, নারীর শরীর ও সম্মতি

২.০ ভূমিকা
নারীর মন ও শরীর বোঝা কি আসলেই কঠিন? বিজ্ঞান বলছে, এটি কঠিন নয়, তবে ভিন্ন। এই অধ্যায়ে আমরা ডিজায়ার বা কামেচ্ছার ইঞ্জিন কীভাবে কাজ করে এবং সম্মতি বা কনসেন্ট আসলে কী, তা জানব।
২.১ কামেচ্ছার বিজ্ঞান: দ্য ডুয়াল কন্ট্রোল মডেল (Dual Control Model)
নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে ড. জন ব্যানক্রফট এবং এরিক জানসেন 'ডুয়াল কন্ট্রোল মডেল' আবিষ্কার করেন। তাদের মতে, আমাদের মস্তিষ্কে সেক্সুয়াল রেসপন্স সিস্টেম গাড়ির মতো দুটি পেডালের ওপর চলে:
-
এক্সিলারেটর (SES - Sexual Excitation System): যা আমাদের উত্তেজিত করে। যেমন: রোমান্টিক কথা, স্পর্শ, ভিজ্যুয়াল উদ্দীপনা।
-
ব্রেক (SIS - Sexual Inhibition System): যা আমাদের থামিয়ে দেয়। যেমন: স্ট্রেস, ভয়, লজ্জা, "বাচ্চা জেগে যাবে কিনা" সেই চিন্তা, নিজের শরীর নিয়ে হীনম্মন্যতা।
গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা: অনেকে ভাবেন কামেচ্ছা বাড়াতে হলে শুধু এক্সিলারেটরে চাপ দিতে হবে (আরও সেক্সি হতে হবে)। কিন্তু বাস্তবে, ব্রেক থেকে পা সরানো অনেক বেশি কার্যকর। পার্টনারের স্ট্রেস কমানো বা তাকে নিরাপদ বোধ করানোই হতে পারে সেরা ফোরপ্লে।
Spontaneous vs. Responsive Desire
-
Spontaneous: হঠাৎ ক্ষুধা পাওয়ার মতো সেক্সের ইচ্ছা জাগা (বেশিরভাগ পুরুষের ক্ষেত্রে)।
-
Responsive: শুরুতে ইচ্ছা থাকে না, কিন্তু আদর বা উদ্দীপনা (Stimulation) পেলে ইচ্ছা জাগে (বেশিরভাগ নারীর ক্ষেত্রে)। এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
২.২ শরীর ও মনের সংযোগ (Arousal Nonconcordance)
আমরা ভাবি, শরীর উত্তেজিত হওয়া মানেই মন চাইছে, অথবা শরীর সাড়া দিচ্ছে না মানে মন চাইছে না। বিজ্ঞান বলছে, শরীর এবং মন সবসময় এক লাইনে চলে না। একে বলা হয় Arousal Nonconcordance।
-
উদাহরণ ১: একজন নারী হয়তো মানসিকভাবে উত্তেজিত (চাইছেন), কিন্তু তার শরীর লুব্রিকেট হচ্ছে না (ড্রাই)। এর মানে এই নয় যে তিনি আগ্রহী নন; হয়তো স্ট্রেস বা হরমোন বাধা দিচ্ছে। এখানে লুব্রিকেন্ট সমাধান হতে পারে।
-
উদাহরণ ২: অবাঞ্ছিত স্পর্শ বা ভয়ের মুহূর্তেও শরীরে রক্তপ্রবাহ বাড়তে পারে বা লুব্রিকেশন হতে পারে। এটি শরীরের একটি যান্ত্রিক প্রতিক্রিয়া মাত্র, সম্মতি নয়।
*শিক্ষা: শরীরের রেসপন্স দেখেই সম্মতি ধরে নেবেন না, মনের ইচ্ছা জানুন।
২.৩ সম্মতি ও ট্রমা-ইনফর্মড অ্যাপ্রোচ
ট্রমা ও ফ্রিজ রেসপন্স (Tonic Immobility)
সম্মতি মানে শুধু "না" না বলা নয়। ভয় বা ট্রমার মুহূর্তে মানুষের মস্তিষ্ক অনেক সময় 'Freeze' বা জমে যাওয়ার রেসপন্স দেয়।
-
পার্টনার যদি চুপ হয়ে যান, কোনো সাড়া না দেন বা পাথরের মতো শক্ত হয়ে থাকেন, তবে ধরে নেবেন না তিনি উপভোগ করছেন। এটি ভয়ের লক্ষণ হতে পারে।
-
এই অবস্থায় সব থামিয়ে দিন এবং জিজ্ঞাসা করুন, "তুমি কি ঠিক আছো?"
এনথুজিয়াস্টিক কনসেন্ট (Enthusiastic Consent)
সম্মতি হতে হবে আগ্রহপূর্ণ।
-
পজিটিভ: জড়িয়ে ধরা, শ্বাস দ্রুত হওয়া, "হ্যাঁ" বলা বা শব্দ করা।
-
নেগেটিভ: দূরে সরে যাওয়া, চুপ থাকা, হাত দিয়ে বাধা দেওয়া।
২.৪ হরমোন ও মাসিক চক্রের প্রভাব
নারীর মুড সাইকেল হরমোনের ওপর নির্ভরশীল: - ওভুলেশন (Day 12-16): ইস্ট্রোজেন ও টেস্টোস্টেরন পিক-এ থাকে। কামেচ্ছা সবচেয়ে বেশি থাকে।
- লুটয়াল ফেজ/PMS (Day 17-28): প্রজেস্টেরন বাড়ে। মুড সুইং বা শরীর খারাপ লাগতে পারে। এই সময় ইমোশনাল সাপোর্ট বেশি জরুরি।
সারসংক্ষেপ
সেক্স শুধু শরীরের ঘর্ষণ নয়, এটি মস্তিষ্ক, হরমোন এবং আবেগের এক জটিল খেলা। পার্টনারের 'ব্রেক'গুলো রিলিজ করা এবং তার সম্মতিকে সম্মান জানানোই একজন ভালো সঙ্গীর লক্ষণ।
📚 References & Further Reading
1. Dual Control Model - Dual Control Model scoping review (2023)
2. Arousal Nonconcordance - Genital–subjective arousal concordance (mindfulness-based sex therapy, 2016)
3. Trauma-informed consent (Freeze / Tonic immobility) - Tonic immobility in victims of sexual violence (2024)
4. Menstrual Cycle & Libido - Hormones and Desire - Healthline